২০০৮ সালের কথা। টং দোকানের চা খেতে খেতে ক্যাম্পাসের এক বড় ভাইয়ের ভালোবাসার গল্প শুনছি।
বড় ভাই ভীষণ আবেগ নিয়ে বললেন, "আমি আমার প্রেমিকাকে এতই ভালোবাসি যে সারা
জীবন ওর একটা ছবির দিকে তাকিয়ে আমি এক জন্ম শেষ করে ফেলতে পারবো।"
আমার মনে হলো, "বাহ! ভাইয়ায়া আপুকে কত ভালোই না বাসেন!"
কিছুদিন পর সেই আপুর সাথে দেখা। আমি বেশ উৎসাহ নিয়ে সেই আপুকে বড় ভাইয়ের
বলা কথাটা বললাম। আপু সেই কথা শুনে মৃদু হেসে বলেছিলেন, "কাউকে ভালোবেসে
সারাজীবন কাটিয়ে দেওয়া সহজ। কিছু ভালোবাসার মানুষকে নিয়ে একই ছাদের নিচে
থেকে, তাকে আজীবন একই রকম বা আগের চেয়েও বেশি ভালোবাসা, ভালো রাখা এবং নিজে
ভালো থাকা অনেক কঠিন।"
আপুর কথা শুনে আমার মনে হয়েছিলো, "আপুটা এমন কাঠখোট্টা কেন? এতো সুন্দর কথার উত্তর কেউ এভাবে দেয়"
দিনে দিনে বেশ অনেকগুলো বছরের পাতা বদল হলো। চারপাশে তাকাই, নানা মানুষ
দেখি। নানা মানুষের গল্প শুনি, গল্পে থাকি, গল্পে বাঁচি। অনুভব করতে পারি
আজ থেকে ৬ বছর আগে মেয়েটা কতই না রুঢ় অথচ সত্য ও বাস্তব একটা কথা বলেছিলো।
অনেকের প্রশ্ন থাকতে পারে সেই ভাইয়া আর আপু ভালোবাসার গল্পে এরপর কী হল?
নাহ, তাঁদের সম্পর্কটা আর টিকে নি। নানা কারণে টিকে নি। সারা জীবন আপুর
ছবি দেখে কাটিয়ে দেবেন কথাটা বলা সেই ভাইয়াই বরং সম্পর্ক শেষ হওয়ার
মাসখানেকের মাঝেই নতুন একজনের প্রেমের পড়েছিলেন। তারপর ৬ মাসের মাঝেই করলেন
বিয়ে।
ভাইয়ার বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর, সেই আপুর খবর জানি না। জানা
নেই সেই মেয়েটি তাকে ভালোবাসবে, একসাথে থেকে তাকে নিয়ে ভালো থাকার মত কাউকে
আদৌ খুঁজে পেয়েছে কিনা! শুধু জানি তাঁর বলা সেই ভীষণ সত্য কথাটা আমি অনুভব
করতে পারি।
আমি আবেগে ডুবুডুবু হয়ে থাকা কোন ছেলে বা মেয়েকে
বলতে পারি, "তুমি কাউকে ভালবাসো জানি, কিন্তু ভালোবাসা টিকিয়ে রাখা,
ভালোবাসা ধরে রাখা , সম্পর্কের যত্ন নেওয়া অনেক সাধনার বিষয়।"
যদি কাউকে সত্যিকারভাবেই ভালবাসো, তবে সেই ভালোবাসাকে যত্ন করে আগলে রাখা খুব জরুরী... খুব জরুরী...
একুয়া রেজিয়া
No comments:
Post a Comment